মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপসংহার

উপসংহার

ইতিহাস-ঐতিহ্য-শিক্ষা-সংস্কৃতির লীলাভূমি কুমারখালী পৌরসভা। শত ঐতিহ্যের এক বর্ণালী আলোকচ্ছটা। সাহিত্য, সংস্কৃতি, সংগ্রাম, আন্দোলন, সাংবাদিকতা, প্রকাশনা, রাজনীতি, সমাজসেবা, প্রত্নতত্ব-পর্যটন ইত্যাদি ক্ষেত্রে কুমারখালীর রয়েছে বিশ্ববিদিত ঐতিহ্য। বিশ্ব খ্যাত কবি সাহিত্যিক, কৃতি শিক্ষাবিদ, বিপস্নবী বীর, পটু রাজনীতিবিদ, দক্ষ সমাজকর্মী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মনীষিদের জন্ম ও পদস্পর্শে ধন্য ও গর্বিত কুমারখালীর মাটি। কুমারখালী একটি প্রাচীণ শহর। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর আমলে এখানে নীল ও রেশম কুঠি স্থাপিত হয়। তখনই একটি সফল ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। জানা যায়, ১৮২৮ সালে পাবনা জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলে কুমারখালী পাবনা জেলার অন্তরভূক্ত হয়। এর আগে যশোরের মধ্যে ছিল। ১৮৫৭ সালে কুমারখালীতে প্রথম মহকুমা প্রতিষ্ঠা হয়, কুমারখালী মহকুমার অধীনে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি, পাংশা, কুমারখালী, খোকসা ও অধুনালুপ্ত ভালুকা থানা অমত্মর্ভুক্ত হয়। ১৪ বছর পর অর্থাৎ ১৮৭১ সালে কুমারখালী মহকুমা বিলুপ্ত হলে কুমারখালী থানা হিসেবে জন্মলাভ করে এবং নবগঠিত কুষ্টিয়া মহকুমার অমত্মর্ভুক্ত হয়। এ সময় কুষ্টিয়া মহকুমা নদীয়া জেলার সাথে সম্পৃক্ত হয়। কুমারখালী পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৮৬৯ সালের ১লা এপ্রিল, সে মোতাবেক কুমারখালী পৌরসভার বয়স বর্তমান ১৪২ বছর ৫ মাস ১ দিন। সুতরাং কুমারখালী একটি প্রাচীণ ঐতিহ্যবাহী পৌরসভা একথা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কুমারখালী ঐতিহাসিক কারণে যখন পৌরসভার রূপ লাভ করে তখন বাংলাদেশের কোন মফস্বল শহর এমনকি জেলা শহরেও পৌরসভা হয়নি। প্রতিষ্ঠা লগ্নে কুমারখালী পৌরসভার আয়তন ছিল মাত্র আড়াই বর্গমাইল। অবশ্য পুরাতন পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা গড়াই নদীর গর্ভে বিলীন হলেও কয়েকবার আয়তন বর্ধিত হওয়ার ফলে বর্তমানে কুমারখালী পৌরসভার আয়তন ১০.৫ বর্গ কিঃ মিঃ। ১৮৬৯ সালের ১লা এপ্রিল তারিখে প্রতিষ্ঠিত কুমারখালী পৌরসভা ২০০০ সালে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় উন্নীত হয়েছে। দেশের অন্যতম প্রাচীণ কুমারখালী পৌরসভাটির বর্তমান সার্বিক অবস্থা বেশ সুখকর। প্রায় ৬০ হাজার লোক অধ্যুষিত কুমারখালী পৌরসভা এলাকায় রাসত্মা রয়েছে ৮০ কিঃ মিঃ। এর মধ্যে পাকা ৬৫ কিঃ মিঃ। ২০কিঃ মিঃ ড্রেনের মধ্যে পাকা ১০ কিঃ মিঃ। ধর্মীয় উপসনালয় হিসেবে মসজিদ ২১টি, মন্দির ১০টি, ঈদগাহ্ ময়দান ৪টি, কবর স্থান ৩টি, শ্মশান ১টি। পৌরবাসীর পানির চাহিদা পূরণের জন্য ৩টি পাম্প হাউজ সহ হসত্মচালিত ৯টি (তারা ও মিনি তারা) নলকুপ আছে। এছাড়াও পৌর এলাকায় ৫টি ক্রীড়া ময়দান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন/ক্লাব ৮টি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কলেজ ২টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৪টি, প্রাথমিক বিদ্যালয় ১০টি, মাদ্রসা ৪টি ও ৬টি কিনাডার গার্টেন বিদ্যমান। কাপুড়িয়া হাট, পদ্ম পুকুর ঘাট, রেলষ্টেশন, পাবলিক লাইব্রেরী, কুমারখালী পৌরসভার অত্যমত্ম প্রাচীণ স্থাপনা প্রতিষ্ঠান। ১৪২ বছরের প্রাচীণ ঐতিহ্যবাহী কুমারখালী পৌরসভা বর্তমানে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। বন্যা প্রধান অঞ্চল হওয়ায় এখানে রাসত্মা-ঘাট’র ও উন্নয়ন প্রোয়জন, বন্যার পানি এবং পয়ঃনিস্কাশনে রয়েছে নানাবিধ সমস্যা। পাম্প হাউজ পৌরবাসীর চাহিদা পূরনে ব্যর্থ হচ্ছে। পানির চাহিদা পূরণ ও এ সমস্যা সমাধানের জন্য আরো পাম্প, পাইপ লাইন ও ওভারট্যাঙ্ক অত্যমত্ম জরুরী। হাট বাজারের সমস্যাও বেশ প্রকট। স্বল্প জায়গায় একমাত্র এই বাজারে ক্রয় বিক্রয়ে জনগণের অসুবিধার অমত্ম নেই। মদের দোকান শহরের মাঝখানে হওয়ায় সমস্যা বর্ণনাতীত। কাপুরিয়া হাট সম্প্রসারণ হলেও সমস্যা রয়েছে এখনও প্রচুর। প্রখ্যাত সাধক সূফী সোনাবন্ধু, ওহাবী আন্দোলনের সূর্যসৈনিক কাজী মিয়াজান, সুসাহিত্যিক কাঙ্গাল হরিনাথ, জলধর সেন সহ নাম অজানা গুনী-জ্ঞানীদের পূণ্যভূমি এই কুমারখালী এবং তাঁরা দেশ তথা সমাজ সেবার মহান মন্ত্র বুকে লালন ও ধারণ করে এগিয়েছেন দৃঢ় পায়ে।

 

ছবি